জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় আজ ১৩টি নতুন ও সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ও অনুদান খাত থেকে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। এতে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ১৯৮ কোটি ৯৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮৮ কোটি ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। বিভিন্ন সংশোধনের পর ব্যয় বেড়ে ২ হাজার ৯১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা হয়েছিল। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক ও ড্রেনেজ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকার একটি নতুন প্রকল্প তালিকায় রয়েছে। এতে সরকারের অংশ ৫৪৯ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অংশ ২৩৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। এছাড়া রংপুর সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকার পৃথক দুটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকার বড় একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বাইরে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্পও একনেকে উঠছে, যার পুরো অর্থ সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। পঞ্চগড়ের ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার টাকার নতুন প্রকল্পও প্রস্তাবনায় রাখা হয়েছে।
রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সরকারি অর্থায়ন নেই; বরং ঋণ ও অনুদান থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার টাকা সংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক ইঞ্জিন কিনতে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রকল্পও আজ বিবেচনার জন্য রাখা হয়েছে। এতে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ১২১ কোটি ৯৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৪৮০ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা।
নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির জন্য ১৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার একটি নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি ফ্রান্সে বাংলাদেশ মিশনের চ্যান্সারি ভবন আধুনিকায়নে ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।
কয়েকটি চলমান প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবও আজ তোলা হবে। গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনে ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে প্রকল্পটির মোট ব্যয় বেড়ে ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকায় দাঁড়াবে। এছাড়া নৌপরিবহন করপোরেশনের ৩৫টি জলযান সংগ্রহ প্রকল্পের ব্যয় ৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ১৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক প্রকল্পের ব্যয় ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ ৩২ হাজার টাকা করা এবং মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত চতুর্থবার বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ১ হাজার ৩১৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ৪৬৯ কোটি ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। প্রথম সংশোধনে তা ৮৫৩ কোটি ১২ লাখ এবং দ্বিতীয় সংশোধনে ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ ৩২ হাজার টাকায় উন্নীত হয়। প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।