সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তাঁর সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমান। শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর দাবি করেন, গাজী নজরুল এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। বিষয়টি জানার পর এমপি তাঁকে প্রলোভন দেখিয়ে চুপ থাকার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুর রহমান জানান, গত ১৮ জুন তিনি প্রথম গাজী নজরুলের সঙ্গে ওই তরুণীর সম্পর্কের বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরদিন তরুণীর সঙ্গে কথা বললে সে সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করে। এরপর ২০ জুন এমপি হোস্টেলে গিয়ে গাজী নজরুলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন ওবায়দুর। তখন গাজী নজরুল সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং তরুণীর মাধ্যমে তাঁকে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি তাঁকে ব্যক্তিগত সহকারী ও গাড়িচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখান। ওবায়দুর জানান, তিনি অর্থের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও তরুণীর নিরাপত্তা ও ঘটনার প্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গাড়িচালকের কাজ গ্রহণ করেন।
ওবায়দুরের দাবি, গত ২২ জুন মেট্রোরেলের পল্লবী স্টেশনের একটি কফি শপে এবং ৯ জুলাই মিরপুর-১২ এলাকার একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গাজী নজরুল ও ওই তরুণীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছেন তিনি। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলে তিনি জানান। ১৩ জুলাই মগবাজারের একটি রেস্টহাউসে তাঁদের অবস্থানের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন ওবায়দুর। ওই রাতে তরুণীকে নিয়ে ঢাকার বাইরে চলে যান তিনি। পরদিন ঢাকায় ফেরার পথে গাজী নজরুলের নির্দেশে খিলক্ষেত এলাকায় তরুণীর বাবা ও আমিনুর নামের একজনের সঙ্গে দেখা করেন। ওবায়দুরের অভিযোগ, ওই রাতে বাসায় ফেরার পর তরুণীর বাবা ও আমিনুর তাঁর ওপর হামলা চালান এবং গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন।
গাজী নজরুল অবশ্য এর আগে অভিযোগ করেছিলেন যে, ১৩ জুলাই ওই তরুণীর বাবার অফিসে তাঁকে জিম্মি করে ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওবায়দুর রহমান এবং ভিডিও ফাঁস করেছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ২১ জুলাই ওবায়দুরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলা করেন গাজী নজরুল। ওবায়দুর জানান, মামলাটি পরে ডিবিতে স্থানান্তরিত হয় এবং কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হলেও পরে আদালত তাঁদের জামিন দেন।
এদিকে, ২ আগস্ট ওবায়দুরের বিরুদ্ধে নারী অপহরণ, নারী পাচার ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মামলা করেন ওই তরুণীর মা। মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে। ওবায়দুর রহমান অভিযোগ করেন, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ আগস্ট পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। তিনি পুরো ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও আইনি প্রতিকার দাবি করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনৈতিক সম্পর্কের কথা জেনে ফেলার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম (৭৫) প্রলোভন দেখান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাঁচ বছর সঙ্গে থাকলে জীবন বদলে যাবে বলে আশ্বাস দেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার দাবি ও হামলার প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আলোচনায় ওঠার পর গাজী নজরুল জানান, ওই তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওবায়দুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ৬ থেকে ১৩ জুলাই তিনি গাজী নজরুলের সঙ্গে ছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গুরুতর আহত অবস্থায় দিবাগত রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ‘মেয়েটির বাবাকে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেন গাজী নজরুল, স্বপ্ন দেখান কোটিপতি বানানোর’।