শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করতে বিশেষ বার্তা দিল্লির, মিলতে পারে ‘অভাবনীয়’ উপহার

প্রতিবেদকের নাম

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দিচ্ছেন না—এমনটি জানার পরপরই ভারত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য ঢাকার কাছে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করতে দিল্লি সব ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রায় পাঁচ মাস আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে এই সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু নিয়ে আটকে না থেকে বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই এখন তাদের অগ্রাধিকার। ভারতীয় গণমাধ্যমের ইঙ্গিত অনুযায়ী, তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে তাকে খালি হাতে ফিরতে হবে না, বরং তাকে ‘অভাবনীয়’ কোনো কূটনৈতিক উপহার দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভারতের রাজ্যসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং দুদেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ প্রকল্পগুলো নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশ সরকার একত্রে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে রেল, সড়ক ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটাবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ওপর যেসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, সেগুলো তুলে নেওয়ার বিষয়টিও ভারত বিবেচনা করছে। কূটনীতিকদের মতে, হাসিনার প্রত্যর্পণ একটি জটিল আইনি প্রক্রিয়া, তাই এই ইস্যুকে এড়িয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে দ্রুত আলোচনা শুরু করা জরুরি।

ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনের আগেই তারেক রহমানের ভারত সফর সম্পন্ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এই সফর হলে তা সবচেয়ে কার্যকর হবে, কারণ এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বছরজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন। হাসিনা ইস্যুতে বাংলাদেশের কঠোর অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। বিশেষ করে তারেক রহমানের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর একান্ত আলোচনাকে কূটনৈতিক মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে। এরপরই হাইকমিশনার দিল্লি গিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবং পরে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ঢাকায় ফিরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফর নিশ্চিত করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন। এটি হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম ভারত সফর, যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হতে পারে। এই সফরের অংশ হিসেবে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের কথা রয়েছে। দুই দিনের এই সম্ভাব্য সফরে বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ভারত সরকার তারেক রহমানকে দ্রুত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এবং আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্যও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনকালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে সব বিধিনিষেধ ভারত চাপাতে বাধ্য হয়েছিল সেসব উঠিয়ে নেয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।

কেননা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর পর বছরভর নানা ভাবে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন।

তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তাদের বাংলাদেশের মনোভাব জানানোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও বৈঠকে বিস্তারিত জানিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

রাজনৈতিক পযর্বেক্ষক মহলের মতে, ভারতের ঘোষণা থেকে বোঝা যাচ্ছে- ড.

ভারতেরও এ ধরনের বহু প্রত্যর্পণের অনুরোধ বিভিন্ন দেশে বছরের পর বছর আটকে রয়েছে।

ফলে অদূর ভবিষ্যতে সেই সফরের সম্ভাবনা থাকবে না।

এর পরেই ভারতীয় হাইকমিশনার তড়িঘড়ি দিল্লি চলে আসেন।

এ নিয়ে ঢাকা ও দিল্লিতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

দুই দিনের এই সফরটি দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি হিসেবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তবে সফরের সময়সূচিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এখনো আলোচনা চলমান বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ