সারাদেশের সঙ্গে নাটোরেও শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। কঠোর নিরাপত্তা, সিসিটিভি নজরদারি এবং নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের বিশেষ তদারকির মধ্য দিয়ে বুধবার (২ জুলাই) সকাল থেকে জেলার ৩৪টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিনের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নাটোর জেলার ৩৪টি কেন্দ্রে মোট ১৬ হাজার ৫৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০টি কেন্দ্রে ১১ হাজার ৮৫৭ জন, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ১১১ জন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৫টি কেন্দ্রে ৫৭১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন।
সকালে কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্ধারিত সময়ের আগেই অধিকাংশ পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে উপস্থিত হন। প্রবেশপথে তল্লাশি শেষে তাদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। কেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদেরও ভিড় লক্ষ্য করা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রের আশপাশে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।
নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ প্রফেসর শফিক নেওয়াজ তালুকদার বলেন, “পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রজুড়ে সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। রোভার স্কাউট ও বিএনসিসি সদস্যরা পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি শেষে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা শতভাগ অনুসরণ করে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। প্রথম দিনের পরীক্ষা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষার্থীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয় এবং একই সঙ্গে নকল বা অসদুপায় অবলম্বনের কোনো সুযোগ না থাকে—সে বিষয়ে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক, কক্ষ পরিদর্শক এবং স্বেচ্ছাসেবকরা সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, “সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রতিটি কেন্দ্র নিয়মিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা পরিদর্শন করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বয়ে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষার্থীরা যাতে নিরাপদ ও স্বস্তিকর পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার যথাযথ মূল্যায়নের সুযোগ পাবে। অভিভাবকরাও প্রশাসনের নেওয়া নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।