মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ভার্চুয়াল নারীর প্রেমে সম্পত্তি বেচে ব্রাজিলে প্রতারিত রাজমিস্ত্রি প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন ইশরাক হোসেন এ মাসেই বাড়তি বেতন পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৫১ ভর্তি দুটি ফ্যান ও বাতির বিল লাখ টাকা মাদক নির্মূলে অভিযানে গিয়েছিলাম, চাঁদাবাজি নয়: ইশরাক শিক্ষামন্ত্রী: প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম হুমায়ুন কবির -: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় প্রবাসীর বাড়ির পথ আটকে বেড়া, জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ লক্ষ্মীপুরে পাঁচ প্রকৌশলীর বদলি: দুর্নীতির শাস্তি কি কেবল স্থানান্তর?

প্রধানমন্ত্রী: স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দিলে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের

প্রতিবেদকের নাম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, বিরোধিতার নামে এমন কোনো কর্মকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয় যা স্বৈরাচারকে পুনরায় ক্ষমতার মসনদে ফেরার সুযোগ করে দেয়। তিনি বলেন, এ ধরনের পথ তৈরি করা হলে তা কেবল জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নয়, বরং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে গাদ্দারি করার শামিল। এর আগে আজ সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান।

আজ রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলম।

উদ্বোধনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও ‘বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা’ করার পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন জরুরি। জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, আর অন্যান্য দল পেয়েছে বিরোধী দলের ভূমিকা। সরকারি ও বিরোধী দল উভয়েরই মূল দায়িত্ব হলো জাতীয় স্বার্থে যুক্তিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে কল্যাণকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। জনগণের ভোট নিয়ে আপনারা যেমন বিরোধী দলের আসনে বসেছেন, আমরাও জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছি। সরকারি দল মানেই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না, আর বিরোধী দলই শুধু জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে-এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। এসব বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যই জনগণ তাঁদের সংসদে পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, ‘সংসদে আলোচনার মাধ্যমে যুক্তি ও মতামত তুলে ধরে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে দেশের সাধারণ মানুষ তাঁদের দৈনন্দিন জীবন ও জীবিকার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে পারেন। পরিবেশ দূষণ ও অপরিচ্ছন্নতা মানুষের রোগব্যাধি বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব। এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলেও তা যথাযথভাবে পালনে নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, সরকার সবসময় দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। বিরোধী দলের প্রতি তার আহ্বান ছিল, যেন তারা কেবল রাজনৈতিক দূরত্ব না খুঁজে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ কাজে লাগায়। জুলাই অভ্যুত্থানে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই আজকের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মূল ভিত্তি হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিএনপির ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেন। তিনি মনে করেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক জাতীয় ইস্যুগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব এবং সেটিই গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চা। সংবিধান সংশোধন ও সংস্কারের মতো বিষয়গুলোতে সংসদই হতে হবে আলোচনার প্রধান স্থান। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন, সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব অবস্থান ও বক্তব্য থাকতে পারে।

ওসমানী উদ্যানের উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২৩ একর আয়তনের এই ঐতিহাসিক উদ্যানটিকে রাজধানীর একটি আধুনিক কেন্দ্র হিসেবে সাজানো হয়েছে। আধুনিকায়নের আওতায় এখানে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, পার্কিং ব্যবস্থা ও জলাশয়ের ঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি বিশেষ ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে।

স্মৃতিস্তম্ভের স্থাপত্য সম্পর্কে তিনি তুলে ধরেন যে, এর সামনে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক স্থাপন করা হয়েছে। স্তম্ভটির বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে চার ফুট উঁচু এবং ভেতরের দিকে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে সাত ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে। এগুলোতে ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণ-আন্দোলনসহ ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে নির্মিত ৯০ ফুট উঁচু স্মৃতিস্তম্ভটি প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত। স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে। এসব ভাস্কর্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

পরিবেশ সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রকৃতির ক্ষতি হ্রাস করা জরুরি। সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনি উদ্যান ও স্মৃতিস্তম্ভের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিশেষ নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি রাজধানীর সরকারি হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকাগুলোর পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসা ও প্রশাসনিক সেবার পরিবেশ উন্নত করতে দায়িত্বরতদের আরও সচেতন হতে হবে। তবে স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রকৃতির ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘উন্নয়নকাজের পাশাপাশি বিদ্যমান গাছপালা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা জরুরি। ভবিষ্যতে স্থাপত্য ও অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রেও প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। এ সময় তিনি উদ্যানসংলগ্ন গ্রন্থাগারও পরিদর্শন করেন।

তিনি জানান, জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার ধাপে ধাপে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। শহীদ ও আহতদের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ। তাঁদের এই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নেই সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁরা এমন একটি বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, যেখানে মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করবে, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারবে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ