সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) আরিফুর রহমানের আচমকা অস্বাভাবিক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে ইউএনও শিল্পী রানী মোদককে দায়ী করে এবং প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে দুটি পোস্ট দেন। এরপর পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা দ্রুত তার সরকারি বাসভবনে ছুটে যান। মুঠোফোনে তিনি বলেন, এসিল্যান্ড মানসিকভাবে খুবই অসুস্থ।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদক জানান, ওই রাতে তার তিন বছর বয়সী মেয়ের জন্মদিনের আয়োজনে এসিল্যান্ড স্ত্রীসহ তার বাসায় উপস্থিত ছিলেন। বাসা থেকে বের হওয়ার পরপরই তিনি ফেসবুকে ওই পোস্টগুলো করেন। ইউএনও বলেন, তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না কেন তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ পোস্ট দেওয়ার মাত্র ছয় মিনিট আগেও এসিল্যান্ড স্বাভাবিকভাবেই তার বাসায় অবস্থান করছিলেন। তিনি সুস্থ হয়ে ফিরলে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার পর সংবাদ সম্মেলন করে জানানোর কথা জানিয়েছেন ইউএনও। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা সদরে বসবাস করেন। কাল রাতে উপজেলার সদরে যা ঘটেছে, তা সবাই দেখেছেন। ফেসবুক পোস্টে কেন এসিল্যান্ড আপনার কথা লিখলেন, এমন প্রশ্নে শিল্পী রানী মোদক বলেন, ‘এটা আমারও প্রশ্ন। উনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর কথা বলি, এরপর সংবাদ সম্মেলনে করে বিস্তারিত জানাব।’। তখন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকও আসেন।
বাসায় উপস্থিত থাকা জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী জানান, তারা এসিল্যান্ডকে মানসিক বিকারগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান। সে সময় সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তার স্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী তাকে ঘুমের ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় রাতেই চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়। প্রথমে তাকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নিয়ে গেছেন পরিবারের সদস্যরা।
এসিল্যান্ডের স্ত্রী ও ইউএনওর ভাষ্যমতে, আরিফুর রহমান আগে থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত তিন দিন আগে পানিতে ডুবে একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা দেখার পর থেকেই তিনি ট্রমাগ্রস্ত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অসুস্থতার এই পর্যায়ে তিনি একজন আনসার সদস্যকে মারধর করেন এবং অন্যদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দুই মাস আগে জামালগঞ্জে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তার আচরণের বিষয়ে রাতেই জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তার দাপ্তরিক মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে এবং এই বিষয়টি নিয়ে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।