আগের কার্যদিবসে বড় পতনের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান শান্তি আলোচনা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। খবর রয়টার্সের।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ২৪ সেন্ট বা ০.৩৮ শতাংশ বেড়ে ৭৮ দশমিক ১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ব্যারেল প্রতি ৩৩ সেন্ট বা ০.৪৬ শতাংশ বেড়ে ৭৪ দশমিক ১৯ ডলারে পৌঁছেছে।
এর আগে প্রাথমিক শান্তি আলোচনার পর ইরানকে ৬০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে লেবাননে যুদ্ধবিরতির খবরের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় ৩ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছিল। তবে সপ্তাহের শুরুতে তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা যুদ্ধের হুমকি দিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ট্রাম্প গতকাল তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে জানান, ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচির সততা প্রমাণে পরিদর্শনে রাজি হয়েছে। তবে চুক্তি অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের গভীর অবিশ্বাসের কারণে বাজার এখনও পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না। ফলে যুদ্ধের আগের পরিস্থিতিতে তেলের দাম এখনই ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি আরও যোগ করেন, হরমুজ প্রণালি চালুর বিষয়ে ব্যবসায়ীরা এখন তাড়াহুড়ো না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এদিকে জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গতকাল হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলসহ দুটি অপরিশোধিত তেলের ট্যাংকার পার হয়েছে। তবে মার্কিন জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভে তেলের মজুত গত সপ্তাহে কমে ৩৩১.২ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা ১৯৮৩ সালের জুনের পর সর্বনিম্ন।