রাজধানীর পূর্বাচলে একটি ছয়তলা ভবনে গড়ে তোলা ফ্ল্যাটে মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পুলিশ সদরদপ্তরের রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি (সুপারনিউমারারি) আব্দুল্লাহ আল জহিরকে ওএসডি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ সদরদপ্তরের সদরদপ্তর শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে পূর্বাচলের ওই ফ্ল্যাট থেকে ৮৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটি পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন। অনলাইনে জন্মদিনের পার্টির আড়ালে সেখানে নিয়মিত মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত। এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া এই ফ্ল্যাটটির হোস্ট হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন জহির। পুরো কার্যক্রম পরিচালনায় তাকে সহায়তা করতেন মাহবুবুল আলম নামে এক তরুণ, যিনি কো-হোস্ট হিসেবে কাজ করতেন। এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনায় মাহবুবুলের অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানান তাঁরা।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাহবুবুল আলমের পরামর্শেই ফ্ল্যাটটি বিশেষভাবে নকশা ও সাজসজ্জা করা হয়েছিল। এয়ারবিএনবি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে পরিচালিত এই ব্যবসায় আয়ের ৭০ শতাংশ মালিক জহির এবং বাকি ৩০ শতাংশ মাহবুবুল আলম পেতেন বলে ডিবি জানিয়েছে। অভিযানকালে ফ্ল্যাটটিতে শতাধিক মানুষের উপস্থিতি থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে ১৫ থেকে ২০ জন কৌশলে পালিয়ে যায়। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্ল্যাটটির মালিক জহির হওয়ায় ব্যবসার মুনাফার ৭০ শতাংশ তিনি পেতেন।
অভিযান চালাতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ফ্ল্যাটটিতে ২০২৫ সাল থেকে এসব কার্যক্রম চলছিল। অভিযানের সময় বিপুল মানুষের উপস্থিতি থাকায় প্রত্যেককে শনাক্ত করা, তল্লাশি চালানো এবং তাদের হেফাজতে নিতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়। আটকদের থানায় নেওয়ার জন্য রাজারবাগ থেকে প্রিজন ভ্যান এনে কয়েক দফায় কাজ সম্পন্ন করতে হয়, যা ভোর ছয়টা পর্যন্ত গড়ায়।
অভিযানকালে ফ্ল্যাটটি থেকে কুশ ও পাঁচ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মদের মধ্যে একটি বোতলে কিছুটা অবশিষ্ট ছিল, দুটিতে অর্ধেক এবং একটি বোতল পুরোপুরি খালি পাওয়া যায়। এছাড়া ফ্ল্যাট থেকে কনডমসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করেছে পুলিশ।