বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন

সৌদিতে সাজাপ্রাপ্ত সুইটির খবরে দিশেহারা পরিবার

প্রতিবেদকের নাম

সৌদি আরবে মসজিদের ভেতর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সম্প্রতি এক নারীসহ দুই বাংলাদেশির প্রাণদণ্ড কার্যকরের খবরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সুইটি আক্তারের বাড়িতে নেমে এসেছে ঘোর অনিশ্চয়তা। সরকারের দিক থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানানোয় জীবিত বা মৃত যেকোনো অবস্থায় মেয়েকে দেশে ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁর মা-বাবা। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের সুইটি আক্তার। তবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চাই, আমার মেয়ের কী হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সুইটির বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। ৪ বছর আগে ধার-দেনা করে মেয়েকে সৌদি পাঠিয়েছিলেন। ফজল বলেন, ‘আমার মেয়ের ভাগ্যে কী ঘটেছে আমরা জানি না। সে বেঁচে আছে, না মারা গেছে তাও আমরা জানি না। আমরা শুধু মানুষের কাছে উড়ো খবর শুনেছি।’।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ছয় বছর আগে বিয়ে হওয়া সুইটি আক্তার চার বছর আগে দালালের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সৌদিতে যান। দিনমজুর বাবা ফজল মিয়ার পাঁচ মেয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। প্রবাসে যাওয়ার প্রথম পাঁচ মাস তিনি বাড়িতে নিয়মিত টাকা পাঠাতেন। কিন্তু এরপরই বিপত্তি ঘটে; মক্কায় সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে তাঁকে ফাসানো হয়েছে এবং কারাগারে নেওয়া হয়েছে বলে পরিবারকে জানান সুইটি। প্রথম ৫ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠান তিনি। বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে মতামত ও প্রতিবাদ করছেন। তিনি আরও বলেন, ‘সুইটি জানিয়েছিল, মক্কায় কর্মরত অন্য নারীকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার পর তাকে ফাঁসিয়ে জেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোর্টে তার বিচারের কথা বলেনি।

কারাগারে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন সুইটির খোঁজ না মিললেও দুই সপ্তাহ আগে সর্বশেষ পরিবারে ফোন করেছিলেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুইটির মা জহুরা বেগম জানান, ১৫ দিন আগের ওই ফোনালাপে সুইটি দুই মাস পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফেরার আশা প্রকাশ করেছিলেন। আদালতে তাঁর কোনো বিচার বা সাজা হওয়ার বিষয়ে স্বজনদের কিছুই জানাননি সুইটি। গত দুদিন ধরে লোকমুখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়লেও সুইটির আসল ভাগ্য সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত নন তাঁর স্বজনেরা। জানিয়েছিলেন জেল থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক মাসের মধ্যেই। ১৫ দিন আগে আবার একদিন মেয়ে জেল থেকে ফোন করে।

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় মহেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সৌদি ফেরত ওই নারী শ্রমিকের সাজা কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সরকারি কোনো দপ্তর বা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ