রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন

সময়মতো ফ্ল্যাট হস্তান্তর ও মানসম্মত নির্মাণে জোর: আবদুর রহমান

প্রতিবেদকের নাম

আবাসন খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রকল্পের গুণগত মান ও গ্রাহকের কাছে করা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। স্ট্রাকচারাল ডিজাইন ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তায় কোনো আপস করা সমীচীন নয়, কারণ মানুষের জীবনের সুরক্ষা সবার আগে। মানসম্মত ইলেকট্রিক্যাল ও প্লাম্বিং ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ সুবিধাও নিশ্চিত করা অপরিহার্য। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প হস্তান্তর একটি ব্যবসার মূল ভিত্তি, যা ক্রেতা ও জমির মালিক—উভয় পক্ষের আর্থিক ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করে। এসইএল-এর নিজস্ব অর্থায়নে কাজ করার ফলে প্রকল্পটি সময়মতো শেষ করা প্রতিষ্ঠানটির জন্যও লাভজনক হয়। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প হস্তান্তরের আপনাদের নীতি কী। আবদুর রহমান: প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমরা দুটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিই—গুণগত মান ও প্রতিশ্রুতি। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে কাজ করি; তাই বিলম্ব হলে আমাদেরও লোকসান হয়।

আবাসনকে মৌলিক চাহিদা হিসেবে উল্লেখ করে আবদুর রহমান বলেন, মধ্যবিত্তের জন্য ফ্ল্যাট কেনা সহজ করতে সরকারের নীতিগত সহায়তা জরুরি। সরকার ২৫ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি ঋণসুবিধাসহ সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করতে পারে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকঋণের সুদের হার কমিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে তা পরিশোধের সুযোগ সৃষ্টি করলে সাধারণ মানুষের আবাসন সমস্যা নিরসন সহজ হবে।

ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সঠিক স্ট্রাকচারাল ডিজাইন ও উন্নত নির্মাণসামগ্রীর সমন্বয়ে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা হয়। শুধু ভালো মালামাল ব্যবহার করলেই হবে না, যদি নকশায় দুর্বলতা থাকে। এছাড়া ভবনের ভেতরে নিরাপদ স্থান এবং জরুরি বহির্গমন পথ নিশ্চিত করাও নির্মাণ পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ভবিষ্যৎ নগরী গড়তে জলাবদ্ধতা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও উপযোগ সেবার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করছে এসইএল। বিধিমালা মেনে প্লটের একটি অংশ উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে যাতে বৃষ্টির পানি মাটিতে শোষিত হতে পারে। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন এবং পরিবেশবান্ধব ও তাপপ্রতিরোধী ব্লকের ব্যবহার বাড়ছে। এসির ওপর নির্ভরতা কমাতে এমনভাবে নকশা করা হচ্ছে যেন ফ্ল্যাটে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে।

ক্রেতাদের চাহিদা ও পছন্দের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একক পরিবার বাড়ায় এখন মানুষ রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য এবং ৯০০ থেকে ১২০০ বর্গফুটের কম আয়তনের ফ্ল্যাট পছন্দ করছেন। ফ্ল্যাটের ভেতর ওপেন কিচেন, ফ্লেক্সিবল ফার্নিচার এবং ভবনের ভেতর জিম, রানিং ট্র্যাক ও কমিউনিটি স্পেসের মতো যৌথ সুবিধার চাহিদাও বাড়ছে।

নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধির ফলে আবাসন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মালামালের দাম ১০০ টাকা বাড়লে ফ্ল্যাটের দামে ২০০ টাকার প্রভাব পড়ে, কারণ ডেভেলপারকে জমির মালিকের অংশও তৈরি করতে হয়। পরিবহন ও জ্বালানি খরচ বাড়ায় ফ্ল্যাটের দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের মধ্যে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা বিক্রয় কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসইএল ‘গ্রিন বিল্ডিং’ তৈরিতে জোর দিচ্ছে। আইএফসির ‘এজ’ (EDGE) সার্টিফায়েড প্রকল্পসহ স্মার্ট প্রযুক্তি, সেন্সর লাইট ও আধুনিক বর্জ্য শোধন ব্যবস্থার সমন্বয়ে নতুন সব আবাসন প্রকল্প নিয়ে আসার কাজ চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ