জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরটি দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ‘নভেম্বরে দিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী’, শুনে হাসলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে গত ১২ আগস্ট ঢাকায় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সপ্তম পররাষ্ট্র দপ্তর পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় জাপানের জ্যেষ্ঠ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হিরোয়ুকি নামাজু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন। পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে ঢাকা সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সফরকালে কূটনৈতিক পর্যায়ে দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আলোচনার একটি অংশ হিসেবে জাপানের জ্যেষ্ঠ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হিরোয়ুকি নামাজু পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকেও জাপান সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ড. খলিলুর রহমান ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, টোকিওতে অনুষ্ঠেয় এই সিরিজ বৈঠক ও আলোচনাগুলো বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে। দুই দেশের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এই পারস্পরিক সফরের আমন্ত্রণের বিষয়টি কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতাকে নির্দেশ করে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো প্রশস্ত করার লক্ষ্যেই এই সফর আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন এই সফরটি দুই দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উল্লেখ্য যে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান এবং বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবেই এই সফরগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। উভয় দেশের প্রতিনিধিরাই এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ নিয়ে আলোচনা করবেন।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী টোকিওতে পৌঁছানোর পর চার দিনব্যাপী বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ছাড়াও বিভিন্ন ফোরামে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।