বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জলঢাকায় আরসিসি রাস্তার কাজে চরম অনিয়মের প্রতিবাদ করায় যুবকের ওপর হামলা, এলাকাবাসীর মানববন্ধন দীপ্ত টিভির জনপ্রিয় মেগা সিরিয়াল ‘পরম্পরা’ উপায়-ফুডপান্ডা চুক্তি, লেনদেন হবে আরও সহজ সিরাজগঞ্জে চিকিৎসককে গলাকেটে হত্যা, ১৫ বছর পরে দুইজনের যাবজ্জীবন জাতীয় সংলাপে বৈষম্য বিলোপ আইন দ্রুত প্রণয়নের আহ্বান ফুুলবাড়ীতে ফুল গাছ লাগাই স্লোগানে বৃক্ষ রোপন কর্মসুচি উদ্বোধন আমতলীতে সাড়ে ৬ হাজার গাছের চারা ও ৩০ হাজার কেজি সার বিতরন কুষ্টিয়ায় কর অঞ্চলের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি: ৪ জন আটক ইউবিএল এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ সাংবাদিকতা বিষয়ক কর্মশালা সারাদেশে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

সৈন্য হত্যা মামলায় পাকিস্তানে মানবাধিকার কর্মীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নিউজডেস্ক ঃ

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে এক আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য হত্যার মামলায় বেলুচিস্তান ইউনিটি কমিটি (বিওয়াইসি)-এর নেতা ও মানবাধিকারকর্মী মাহরাং বেলুচ এবং সিবঘাতুল্লাহকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোয়াদরে অনুষ্ঠিত একটি বিক্ষোভ সমাবেশে সহিংসতা ও ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির সদস্য শাব্বির আহমেদ হত্যার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে এই রায় দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সমাবেশে মাহরাং বেলুচ উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার পর ৩০ থেকে ৪০ জন বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িতে হামলা চালায়। একপর্যায়ে শাব্বির আহমেদ দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

কোয়েটার সন্ত্রাসবিরোধী আদালত রায়ে উল্লেখ করে, মাহরাং বেলুচ ও সিবঘাতুল্লাহ অবৈধ সমাবেশে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডে তাদের অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল।

তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বিচার প্রক্রিয়া বর্জন করেছেন। তাদের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, মামলায় যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হয়নি। প্রতিরক্ষা পক্ষের অভিযোগ, ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে সাক্ষ্য দেওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের যথাযথভাবে জেরা করার সুযোগও দেওয়া হয়নি।

মাহরাং বেলুচের বোন ও আইনজীবী নাদিয়া বেলুচ রায় প্রত্যাখ্যান করে এটিকে ‘মুখোশহীন আদালতের রায়’ বলে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশন রায়ের অবিলম্বে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, রাষ্ট্র ভিন্নমত ও মৌলিক অধিকারের পক্ষে অবস্থানকে চরমপন্থার সঙ্গে এক কাতারে ফেলছে, যা বিচারিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও এই বিচার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি একে ‘ন্যায়ের প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, পাকিস্তান সরকার ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে।

তবে বেলুচিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মামলাটি রাজনৈতিক নয় এবং প্রসিকিউশনের কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘অকাট্য প্রমাণ’ রয়েছে।

উল্লেখ্য, মাহরাং বেলুচ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত মানবাধিকারকর্মী। তিনি বিবিসির ২০২৪ সালের ‘১০০ নারী’ তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। তার সংগঠন বিওয়াইসি দীর্ঘদিন ধরে বেলুচিস্তানে জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে আসছে।

পাকিস্তান সরকার সংগঠনটির বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুললেও বিওয়াইসি তা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ