রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের নতুন ‘চেজ মাস্টার’ ভারতের তিলক বর্মা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন: বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার কড়া নির্দেশ ইসির পূজার পাঁচ দিনের ছুটি শেষে কাজে ফিরলেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড, মৃত্যু আরও সাতজনের ইউরোপজুড়ে অর্থনৈতিক ও আবাসন সংকটে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলাকারীদের বিচার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিএসসিসি নির্বাচনে কাউকে প্রার্থী ঘোষণা করিনি: মীর শাহে আলম বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ কোম্পানিকে স্পিকারের আমন্ত্রণ সোমবার খুলছে স্কুল-মাদরাসা, কলেজে ক্লাস ১ নভেম্বর থেকে ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত সেন্টমার্টিন

ফ্রান্সে গ্যাস বিস্ফোরণে প্রাণ হারাল হবিগঞ্জের সাড়ে তিন বছরের শিশু নাহিল

প্রতিবেদকের নাম

তিন মাস আগেও বাবা-মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশে এসে ২৮ দিন কাটিয়ে গিয়েছিল সাড়ে তিন বছরের নাহিল। আত্মীয়স্বজন ও চাচাতো ভাইবোনদের সঙ্গে তার সেই স্মৃতি এখন পরিবারের সদস্যদের কাছে কেবলই হাহাকার। হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কাটখাল গ্রামের বাসিন্দা ও নাহিলের চাচা ফরিদ মিয়া জানান, ভাঙা ভাঙা বাংলায় কথা বলা শিশুটির এভাবে চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কঠিন।

২০১০ সালে ফ্রান্সে পাড়ি জমান কাটখাল গ্রামের জলাই মিয়ার ছেলে রাসেল আহমদ। সেখানে ব্যবসার পাশাপাশি বসবাস শুরু করেন তিনি। ২০১৯ সালে রাজশাহীর মেয়ে লিজা হকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রাসেল। তাদের একমাত্র সন্তান নাহিলকে ঘিরেই ছিল তাদের সব স্বপ্ন। লিজা সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় কর্মব্যস্ত দম্পতি তাদের সন্তানকে প্রতিদিন সকালে নানির বাসায় রেখে কাজে যেতেন।

গত ৫ সেপ্টেম্বর সকালেও নাহিলকে তার নানির কাছে রেখে কাজে যান লিজা। স্থানীয় প্রবাসী ও ফরাসি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্যারিসের উত্তর শহরতলির ওভারভিলিয়ে শহরের একটি দোতলা ভবনে গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে পাশের ভবনটি ধসে পড়লে নাহিল ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। ফরাসি দমকল বাহিনীর রাতভর উদ্ধার অভিযানের পর শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

এই দুর্ঘটনায় নাহিলের পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন

  • নাহিলের নানা এমদাদুল হক (৬৫) ও নানি সালমা হক (৫৫)।
  • নাহিলের দুই খালা রাহা হক (৩৫) ও ইয়ামা হক (১৮)।
  • আহত অন্যদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাহিলের নানি ও দুই খালার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

কাটখাল গ্রামে নাহিলদের বাড়িতে এখন শোকের ছায়া। নাহিলের দাদা-দাদি বেঁচে নেই, বাড়িতে আছেন তার চাচা-চাচি ও চার চাচাতো ভাইবোন। ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফরিদ মিয়া জানান, তার ভাই রাসেল মুঠোফোনে জানিয়েছেন যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নাহিলকে ফ্রান্সেই সমাহিত করা হবে। যদিও এখনো মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।

ঘটনার পর থেকে নাহিলকে জীবিত উদ্ধারের আশায় প্রহর গুনছিল তার পরিবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিশুটির মৃত্যুর খবর আসায় পুরো পরিবারে শোকের মাতম চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কথাগুলো বলতে বলতে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছিল হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কাটখাল গ্রামের ফরিদ মিয়ার (৪৫)। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৯ সালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লিজা হকের (৩০) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের একটি কক্ষে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা হয়েছে, চাচাতো ভাইবোনদের সঙ্গে খেলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কে জানত, সেটিই হবে আমাদের সঙ্গে তার শেষ দেখা!’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চোখের সামনে ভেসে উঠছিল সাড়ে তিন বছরের ফুটফুটে ভাতিজা নাহিলের মুখ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফ্রান্সে বসবাস করছেন এবং সেখানে ব্যবসা করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় একমাত্র সন্তান নাহিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ