সোমবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১০ দশমিক ৫১ ডলারে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ৪ শতাংশ কমেছিল, যা গত জুনের পর থেকে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের লেনদেনে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল মূল্যবান এই ধাতুর দাম।
বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পেছনে মূলত তেলের দাম কমে আসাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা। জ্বালানি তেলের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগমুক্ত হয়েছে বিনিয়োগকারীরা। তবে আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বৈঠকে সুদের হার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে স্বর্ণের বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপথ। বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা থাকলেও ডিসেম্বরে তা বাড়ানোর আলোচনা বাজারকে প্রভাবিত করছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়। তেলের দাম কমে আসায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রশমিত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্বর্ণের দামে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায় বলে জানিয়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই ফেডের মুদ্রানীতির সিদ্ধান্ত আসায় এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে। সুদের হারের প্রত্যাশা ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির ওপর নির্ভর করেই স্বর্ণের দামের গতিপথ নির্ধারিত হবে।
ফেডের সিদ্ধান্তের পরদিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক বা পিসিই প্রকাশিত হবে, যা মূল্যস্ফীতি পরিমাপে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে গত সপ্তাহে ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর সোমবার তেলের দাম কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখলেও ইয়েমেনের হুথিদের সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে।
এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য ধাতুর দরেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৪ দশমিক ১৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৬ দশমিক ২৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে। তবে বিপরীতে প্লাটিনামের দাম ০.২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৪৮ দশমিক ৩০ ডলারে নেমে এসেছে।