রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন নেছাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এসব ঘোষণা ও দুই দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনের পূর্বে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের সামনের সড়কের উভয় পাশে অবস্থান নিয়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ফলে ওই সময়ে আশপাশের রাস্তায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যরাতের পুলিশি হামলার ঘটনায় আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে এই হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত পুলিশ সদস্য এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অধ্যক্ষের পদত্যাগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে স্পষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম, নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন, শিক্ষা প্রশাসন বা সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দাবি পূরণের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। দাবি পূরণে প্রশাসন থেকে কোনো আশ্বাস না পাওয়ার আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, পূজার ছুটির আগে কলেজের অডিটোরিয়ামে স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কলেজ প্রশাসন অনুষ্ঠানটি রাত ১০টার মধ্যে সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশ দেয়, কিন্তু এটি শেষ হতে ভোর ৫টা বেজে যায়। নির্ধারিত সময়ের বাইরে অডিটোরিয়াম ব্যবহারের অপরাধে সমন্বয়কারী দুই শিক্ষার্থীর আবাসিক হলের আসন বাতিল করেন অধ্যক্ষ মেহেরুন্নেছা। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাইতে গেলে আসন ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক রাতের অডিটোরিয়ামের এসি ও বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১২ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা দাবি করা হয়। এই ঘটনার পরই শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং গণআন্দোলন শুরু করেন।