পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকার মুনসুর খান প্লাজায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার পর্যন্ত ভবনটি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তা নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে আগুন পুরোপুরি নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে, যদিও এর আগে মোট ১০টি ইউনিট এই অগ্নিনির্বাপণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গতকাল সোমবার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে তারা প্রথম আগুন লাগার খবর পায়।
ভবনটির ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাততলা বিশিষ্ট এই ভবনের নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত ব্যাগ, কসমেটিকস, ছাতা, আতর ও চার্জারের মতো নানা ধরনের পণ্যের দোকান রয়েছে। প্রতি তলায় ৪০ থেকে ৫০টি করে দোকান রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মূলত ষষ্ঠ তলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যেখানে প্রায় সব গুদামের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়াও সপ্তম তলার অধিকাংশ গুদাম এবং পঞ্চম তলার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ভেতরে প্রবেশাধিকার না থাকায় ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। চকবাজারে আগুনে পুড়েছে ৭-৮টি গুদাম, ক্ষতি বেশি ছয়তলায়। শেষে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, ‘কিছু তো করার নেই, আল্লাহ ভরসা।’। আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে আগুন লাগা ভবনটির সামনে এই প্রতিবেদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এফ এম লেদার নামের একটি ব্যাগের গুদামের মালিক খোরশেদ আলম জানান, তার গুদামে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মালামাল ছিল, যার সবই আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। তিনি জানান, ভেতরে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় কিছুই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, আগুন নেভানোর পাশাপাশি গুদামগুলোর অবশিষ্ট মালামাল সরিয়ে পানি দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে। তবে সরু গলি ও পানি স্বল্পতার কারণে অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের বেগ পেতে হচ্ছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিটফোর্ড হাসপাতালগামী সড়কটি বন্ধ করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে মুনসুর খান প্লাজার আশপাশের আরও ১০ থেকে ১৫টি ভবন বন্ধ রাখা হয়েছে, যেখানে কসমেটিকসহ বিভিন্ন পণ্যের অসংখ্য দোকান রয়েছে। ভবনের সামনে এবং সংলগ্ন এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় দোকানিদের অনেকে তাড়াহুড়ো করে তাদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং ওয়াসার পানিবাহী গাড়ির মাধ্যমে পানি এনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।