বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
“দক্ষিণ গফরগাঁও এর সতর বাড়ী গ্রামের বিভিন্ন রাস্তার বেহাল অবস্থা” প্রাইম মিনিস্টার গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ।। দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার “বেগম রাবেয়া মেমোরিয়াল হাই স্কুল”র জয় ঢাকা সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করলো জাতীয় নাগরিক পার্টি ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে এশিয়ান টেলিভিশনের সাংবাদিক নিহত লক্ষ্মীপুরে জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন শতাধিক নেতাকর্মী সায়মা ওয়াজেদের ডব্লিউএইচও নিয়োগ ত্রুটিপূর্ণ ছিল: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব রিপোর্টার পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন যারা গাজীপুরে মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় তিন শিক্ষক গ্রেপ্তার ডেনমার্কে বাড়ির বাগান খুঁড়তেই বেরিয়ে এলো হাজার বছরের পুরনো ভাইকিং রৌপ্যভান্ডার

ছাতকে ১ লাখ ২৬ হাজার শলাকা ভারতীয় নিষিদ্ধ ‘শেখ নাসিরুদ্দিন’ বিড়ি উদ্ধার

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় ‘শেখ নাসিরুদ্দিন’ ব্র্যান্ডের বিড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ সময় ১ লাখ ২৬ হাজার শলাকা বিড়ি জব্দ করা হলেও অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় পলাতক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ছাতক থানার পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাদেক সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স নিয়ে থানা এলাকায় ওয়ারেন্ট তামিল এবং নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনকালে নোয়ারাই ইউনিয়নের আছাদনগর বেতুরা মাদ্রাসা সংলগ্ন খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় পুলিশ দেখতে পায়, একটি নৌকা থেকে কয়েকটি কার্টন নামাচ্ছেন দুই ব্যক্তি। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ এগিয়ে যায়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই দুই ব্যক্তি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে। এসআই মো. সাদেক ও তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলেও অভিযুক্তরা স্থানীয় এলাকার ভেতরের রাস্তা ব্যবহার করে দক্ষিণ দিকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে অভিযুক্তদের ফেলে যাওয়া ছয়টি কার্টন তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় কার্টনগুলোর ভেতর থেকে আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় ‘শেখ নাসিরুদ্দিন’ ব্র্যান্ডের মোট ১ লাখ ২৬ হাজার শলাকা বিড়ি উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত এসব বিড়ি বাংলাদেশে বৈধভাবে আমদানির অনুমোদন না থাকায় সেগুলোকে চোরাচালানের পণ্য হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া বিড়িগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা। ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে এসব বিড়ি দেশে এনে স্থানীয় বাজারে সরবরাহের প্রস্তুতি চলছিল। তবে পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযানের কারণে চোরাচালানকারীদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য দেশে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিড়ি, সিগারেট, প্রসাধনী, মশলা ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্য চোরাইপথে এনে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব পণ্যের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করলেও চোরাচালান চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছাতক থানা পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত নিষিদ্ধ বিড়ি থানায় জব্দ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত দুই পলাতক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের পরিচয় শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ছাতক থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য আমদানি প্রতিরোধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত ও নদীপথ ব্যবহার করে যারা অবৈধভাবে পণ্য পরিবহন ও বাজারজাত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অবৈধভাবে আমদানি করা নিষিদ্ধ পণ্যের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। সন্দেহজনক কোনো কার্যক্রম চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করলে চোরাচালান প্রতিরোধে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

এদিকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ভারতীয় বিড়ি উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পুলিশের এ অভিযান চোরাচালানকারীদের জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ