বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর অভিমুখে মিছিল বের করেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এই কর্মসূচিতে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এ সময় তিনি ব্যারিকেডের ওপর উঠে প্রতিবাদ জানান। তার সঙ্গে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতাকেও পুলিশ আটক করে।
বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। মিছিলটি সংসদ ভবন এলাকা থেকে শুরু হয়ে নীতি আয়োগের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছালে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী তাদের আটকে দেয়। পরে বিরোধী সংসদ সদস্যরা সেখানেই সড়কে বসে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ পরে আটক করলেও, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাসহ অন্যরা আকাশবাণী ভবনে প্রবেশ করেন এবং সেখানে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন। সেখানে আগে থেকেই বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী ও ব্যারিকেড বসানো ছিল। পরে রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘জ্ঞানেশ, এবার পদ ছাড়ুন।’। এই ইস্যুতে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে। মঙ্গলবারের মিছিলকে সেই আন্দোলনেরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভোটার তালিকা থেকে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় বিরোধীরা এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তালিকা হালনাগাদ করার উদ্দেশ্যেই এই প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও গড়িয়েছে। আদালত কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ দিলেও, শুধু সংবাদ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে কমিশনারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অন্তর্বর্তী কোনো আদেশ দেয়নি। আদালত জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় এদিন ব্যাপক নিরাপত্তা নেওয়া হয়। আদালত বলেছে, শুধু সংবাদ প্রতিবেদন বা অনুমানের ভিত্তিতে এমন আদেশ দেওয়া যায় না; আগে অভিযোগের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।