পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদার তৎপরতা নিয়ে যে তথ্য উঠে এসেছে, সেটিকে ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রোপাগান্ডা’ হতে পারে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, দেশে আল-কায়েদার উপস্থিতির বিষয়ে সরকারের কাছে কোনো তথ্য নেই এবং এটি পূর্ববর্তী সরকারের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তি জানতে চাইবে বাংলাদেশ।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের চেষ্টা চলছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের আসা শুরু হলেও এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি। প্রথম তিন-চার বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব হলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না। সময়ের সঙ্গে মিয়ানমারের পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে এবং সংকটও ঘনীভূত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমার সরকারের তথ্যের বিষয়ে বাংলাদেশের আপত্তির কথা দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে জানানো হয়েছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপের বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে নয়, প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের সময় চীনের সঙ্গেও এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বিষয়টিকে কার্যকর পদক্ষেপে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক আদালতের রায়সহ বিভিন্ন আইনি ও কূটনৈতিক বিষয়কে কাজে লাগিয়ে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম পুনর্ব্যক্ত করেন যে, শুধু কূটনৈতিক ভাষায় কথা বললে হবে না, বরং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।