বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই যেন কোচদের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। জয়-পরাজয়ের সমীকরণে ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারলে কোচের চেয়ার যে কত নড়বড়ে হতে পারে, তা এবারের বিশ্বকাপে আরও একবার প্রমাণিত হলো। দলের ব্যর্থতার দায় নিয়ে টুর্নামেন্ট চলাকালীন কিংবা বিদায়ের পরপরই দায়িত্ব ছেড়েছেন অন্তত সাতজন কোচ।
এবারের আসরে কোচদের এই বিদায়ের মিছিল বেশ দীর্ঘ। ডাচদের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপে এলেও রাউন্ড অব ৩২-এ মরক্কোর কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। এই হারের পরেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান কোচ রোনাল্ড কোম্যান। একই পথে হেঁটেছেন ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে। মেক্সিকোর কাছে হেরে দল ছিটকে যাওয়ার পরপরই পদত্যাগের ঘোষণা দেন এই আর্জেন্টাইন কোচ।
দীর্ঘ সাত বছরের সম্পর্কের ইতি টেনেছেন স্কটল্যান্ডের স্টিভ ক্লার্ক। গ্রুপ পর্ব থেকেই স্কটল্যান্ডের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিয়ুং-বো দলকে আশানুরূপ সাফল্য দিতে না পারায় জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন।
এদিকে চেক প্রজাতন্ত্রের কোচ মিরোস্লাভ কুবেকও দলের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে পদত্যাগের পথ বেছে নিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল উরুগুয়ের কোচ মার্সেলো বিয়েলসার বিদায়। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে একটি ম্যাচও জিততে না পারার ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন এই অভিজ্ঞ কোচ।
তালিকায় থাকা ছয়জন কোচের বাইরেও আরেকজন কোচকে সরাসরি বরখাস্ত হতে হয়েছে। তিউনিসিয়ার কোচ সাব্রি লামুশিকে প্রথম ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারের পর ফেডারেশন ছাঁটাই করেছে। তার পরিবর্তে দায়িত্ব পেয়েছেন এরভে রেনার।
ফুটবল বিশ্বের বড় মঞ্চে এমন হারে কোচদের এই বিদায় অবশ্য নতুন কিছু নয়। তবে এত কম সময়ে সাতজন কোচের বিদায় বিশ্বকাপে কোচদের ওপর চাপের বিষয়টিই আরও একবার স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলল।