রাজধানীর বাংলামোটরে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক ওষুধ ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। আহত মো. সোহান (৩৫) নামের ওই ব্যবসায়ীকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, হাতিরঝিল থানা যুবদল থেকে বহিষ্কৃত আহ্বায়ক ফেরদৌস আহমেদ সায়মন ও তার সহযোগীরা পথরোধ করে তাকে পিস্তলের বাঁট দিয়ে আঘাত করেন, যার ফলে তার মাথা জখম হয়। এ সময় সায়মন ফাঁকা গুলি ছুড়ে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রূপায়ণ টাওয়ারের উত্তর পাশের একটি গলিতে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সায়মন পিস্তলের বাঁট দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা সায়মনকে তার ভাড়া বাসার সামনে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে উত্তেজিত জনতা সেখানে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পরে পুলিশ ও এসআরবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রাত সোয়া ১২টার দিকে পুলিশের সোয়াট টিমের সহায়তায় সায়মনসহ চারজনকে উদ্ধার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আটককৃতদের মধ্যে সায়মনের এক ভাইও রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানিয়েছেন, বর্তমানে এই চারজনকে প্রাথমিকভাবে আটক করে রাখা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে। কী কারণে এই সংঘাতের সূচনা হয়েছিল, তা নিয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে। এছাড়া ওই এলাকায় একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের পর তাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সায়মন দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জের ধরেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বাসিন্দাদের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে দেখা যায়। এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উপস্থিতিতেই মোটরসাইকেলে আগুনের বিষয়টি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে ঘটনার পর বাংলামোটর থেকে মগবাজারগামী সড়কের পাশে একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়।