মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ভার্চুয়াল নারীর প্রেমে সম্পত্তি বেচে ব্রাজিলে প্রতারিত রাজমিস্ত্রি প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন ইশরাক হোসেন এ মাসেই বাড়তি বেতন পাবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৮৫১ ভর্তি দুটি ফ্যান ও বাতির বিল লাখ টাকা মাদক নির্মূলে অভিযানে গিয়েছিলাম, চাঁদাবাজি নয়: ইশরাক শিক্ষামন্ত্রী: প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম হুমায়ুন কবির -: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় প্রবাসীর বাড়ির পথ আটকে বেড়া, জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ লক্ষ্মীপুরে পাঁচ প্রকৌশলীর বদলি: দুর্নীতির শাস্তি কি কেবল স্থানান্তর?

মাদক নির্মূলে অভিযানে গিয়েছিলাম, চাঁদাবাজি নয়: ইশরাক

প্রতিবেদকের নাম

প্রধানমন্ত্রী এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তার কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে সরকার বা দল যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সেজন্যই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তাকে দমে না গিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন। পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে ইশরাক বলেন, তার কারণে প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড কিংবা দল যেন বিব্রত না হয়, সে জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে ওঠা নানা গুঞ্জন প্রত্যাখ্যান করে ইশরাক হোসেন স্পষ্ট করেন, তিনি জমি দখল কিংবা চাঁদাবাজির মতো কোনো অপরাধমূলক কাজে যুক্ত নন। তার দাবি, গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর ও মুন্সিরটেক এলাকা মাদকের ভয়ংকর আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এসব এলাকায় স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল, যা নিয়ে এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন ছিল। জনগণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবং পুলিশ বাহিনীর সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করে তিনি এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে নামেন।

থানাকে অবহিত করেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে লাইসেন্স করা ব্যক্তিগত অস্ত্র সঙ্গে রাখার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ঘুণ্টিঘর এলাকায় মাদকের কারবারিরা এতই শক্তিশালী যে, পুলিশ সেখানে যাওয়ার সাহস পায় না। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা ওপর থেকে গুলি চালায়। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে প্রচুর অর্থ ও অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকায় সাধারণ মানুষ মুখ খোলার সাহস পায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। শুধু নিজের নিরাপত্তার জন্য কিছু সময় ব্যক্তিগত অস্ত্র হাতে রেখেছিলাম।’।

ইশরাক হোসেন আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত চক্রগুলোই তার অভিযানের মূল লক্ষ্য থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে বিভিন্ন ধরনের ভিত্তিহীন বয়ান তৈরি করছে। তিনি বলেন, তার দ্বারা যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন, কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন যে কোনো ভুল তিনি করেননি। বরং তিনি মাদকের অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করতে চেয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াই অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামী দিনেও তিনি এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদকের বিস্তার রোধে নিজের অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে চান। মাদক নির্মূলের মূল লক্ষ্য থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি পুনরায় ব্যক্ত করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ