সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চতুর্থ মেয়াদে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন লুলা দা সিলভা দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু জাপানের সহায়তায় প্রকল্প দ্রুত শেষ করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর দেশের ৮৫ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে একযোগে বদলি করল মন্ত্রণালয় শাড়ি নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আদালতে নতুন মামলা ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন: শান্তি বজায় রাখতে মোতায়েন ২১ প্লাটুন বিজিবি জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর ডি-থ্রি ট্রফির নিলামে রেকর্ড পয়েন্টে শরীফুলকে কিনল সিটিজেন ব্যাংক সংরক্ষিত নারী আসনে উপনির্বাচনে এলিজাকে মনোনয়ন দিল বিএনপি

টঙ্গীতে শিশু নির্যাতনের মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন আবেদন নাকচ

প্রতিবেদকের নাম

গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার শিক্ষক মুসলিম আহম্মেদের (৩০) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার শুনানি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী।

ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে ওই শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। বিষয়টি প্রথমে চেপে গেলেও পরে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শিশুটি ঘটনার বর্ণনা দেয়। ঘটনার পর থেকে শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর ২১ অক্টোবর স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হয়ে তাকে মারধর করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষককে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। গত বৃহস্পতিবার আদালত শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। গত বৃহস্পতিবার সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি।

তদন্তের বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, পুলিশ ইতিমধ্যে মাদ্রাসা পরিদর্শন করে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে পুরো ঘটনা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।

এদিকে মামলার বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছেন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫-১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করেছে। এতে অন্য শিক্ষক ও নিরাপত্তাকর্মীরাও আহত হয়েছেন। এ ছাড়া মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর এবং নগদ ১৭ লাখ টাকা ও ৫টি মোবাইল ফোন লুট করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে শিশুটির বাবা সংবাদ সম্মেলন করে জানান, তিনি কেবল মেয়ের ওপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার চাইতে সেখানে গিয়েছিলেন, কোনো ধরনের হামলা বা লুটপাটের উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। তিনি মাদ্রাসার ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। শিক্ষককে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বর্তমানে শিশুটির ওপর নিপীড়নের অভিযোগ এবং মাদ্রাসায় হামলা ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ