বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাইন্যান্স থেকে রেকর্ড ৬৩০ কোটি ডলার চুরির ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হ্যাকাররা অত্যন্ত সুকৌশলে ভুয়া চাকরির ইন্টারভিউ এবং একটি ক্ষতিগ্রস্ত অভ্যন্তরীণ এআই টুল ব্যবহার করে এই বিশাল অঙ্কের সাইবার হামলা চালিয়েছে।
বাইন্যান্সের প্রকাশিত প্রাথমিক অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, হ্যাকাররা এক জটিল ও বহুধাপ বিশিষ্ট চতুর অভিযানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বাইন্যান্স জানায়, অপরাধীরা তাদের প্রকৌশলীদের লক্ষ্য করে সামাজিক প্রকৌশল বা সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশল প্রয়োগ করেছিল।
এর অংশ হিসেবে একজন প্রকৌশলীকে একটি বৈধ চাকরি খোঁজার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয় এবং একটি ভুয়া কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের আমন্ত্রণ জানানো হয়। ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ার নামে হ্যাকাররা ওই প্রকৌশলীর কম্পিউটারে অত্যন্ত ক্ষতিকারক সফটওয়্যার ডাউনলোড করাতে সক্ষম হয়। এর মাধ্যমেই তারা প্রতিষ্ঠানটির মূল ওয়ালেট থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়। বাইন্যান্স এই ঘটনাকে অত্যন্ত জটিল ও গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করে গ্রাহকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই এবং সিক্রেট সার্ভিস বর্তমানে চুরির শিকার হওয়া ক্রিপ্টো চিনে বের করা ও উদ্ধারের কাজে বাইন্যান্সকে সরাসরি সহায়তা করছে। সাইবার বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, এই অভূতপূর্ব হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার প্রত্যক্ষ হাত থাকার সুস্পষ্ট আলামত রয়েছে।
তবে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তা এবং কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং এই সমস্ত অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি এ ঘটনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাজানো অপপ্রচারের চেষ্টা বলে অভিহিত করেন। এর আগে ২০২৫ সালেও বাইবিট ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ থেকে ১৫০ কোটি ডলার হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছিল, যার পেছনে উত্তর কোরিয়ার কুখ্যাত ল্যাজারাস গ্রুপ জড়িত ছিল বলে মনে করা হয়।
বাইন্যান্স উল্লেখ করেছে যে এফবিআইয়ের সাম্প্রতিক তথ্য ও প্রমাণ উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করার বিষয়টিই জোরালোভাবে নির্দেশ করে। প্রতিষ্ঠানটি ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি তাদের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থার জোরদার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।