কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের উলিপুরে পূর্ব ধামশ্রেণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। যে কোন সময় ঘটতে পারে প্রাণহানীর ঘটনা। বেশ কয়েক বছর ধরেই বিদ্যালয় ভবনের বীম ও ছাদের পলেস্তারা ঝিরঝির করে ভেঙ্গে পরছে। গত ঈদুল আযহার ছুটির সময় ভবনের ছাদ ও বীমের পলেস্তারা এমনভাবে খসে পরেছে যে, বিদ্যালয়টি খোলা থাকলে হয়তো পাঠদানের সময় একাধিক কোমলমতি শিশুর প্রান নাশের ঘটনা ঘটতো বলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দাবি। ঝুকিপূর্ন অবস্থা সত্বেও ক্লাস রুম সংকটের কারনে বাধ্য হয়েই শিক্ষকদের ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান অব্যাহত রাখতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল আলম রাজু জানান, প্রায় ৫/৬ বছর আগেই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সংস্কার কিংবা নতুন বিল্ডিং এর জন্য আবেদন করা হয়। কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেয়ায় আবারও ঈদের ছুটিতে ছাঁদ ও বীমের পলেস্তারা ভেঙ্গে পরেছে। প্রথান শিক্ষক বলেন, ভাগ্যিস স্কুল বন্ধ ছিল, আল্লাহ রক্ষা করেছেন।
যদি স্কুল বন্ধ না থাকত এবং ক্লাস চলমান থাকত তাহলে ঘটনাটি ভাবতেও আমার লোম শিওরে ওঠে। বিদ্যালয়ে বর্তমান ১৯০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শ্রেণী কক্ষ ও নিরাপদ মাঠের অভাব না থাকলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ থেকে ৪ শতে উন্নীত করা সম্ভব। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের রাস্তাটিও চলাচলের অনুপোযোগী। বর্ষার দিনে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করা শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।
রাস্তার কিয়দংশ পাকা করনের কাজ শুরু হলেও তা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, রাস্তা ম্যাপ অনুযায়ী না হয়ে বিদ্যালয় মাঠের কিছু অংশ দখল করে তৈরি হচ্ছিল। এতে আপত্তি দেয়ার কারনে কাজটি বন্ধ থাকায় এখন শোচনীয় অবস্থা বিরাজ করছে। বিদ্যালয়ের মাঠ দিয়েই যানবাহন চলাচল করায় যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষকরা আরো অভিযোগ করেন, দূর্ঘটনার আশংকায় অভিভাকরা শিশু শিক্ষার্থীদের এখানে পড়তে পাঠায় না।
অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের দূরবর্তী বিদ্যালয় কিংবা মাদ্রাসায় পাঠান। এ কারণে বিদ্যালয়টিতে বাউন্ডারি ওয়ালসহ নতুন ভবন নির্মাণ অত্যন্ত জরুরী হয়ে পরেছে। দীর্ঘ প্রায় ৫/৬ বছর ধরে ভবনটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থা থাকায় পার্শবর্তী কক্ষগুলোতে ক্লাশ চালানোও নিরাপদ নয় বলেও শিক্ষকরা জানান। এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নার্গিস ফাতিমা তোকদার এর সাথে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ছুটিতে থাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ টি এম আরিফ এর কোন মন্তব্যও নেয়া সম্ভব হয়নি।