শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান মঙ্গলবার কারাগার থেকে ভার্চ্যুয়ালি শুনানিতে অংশগ্রহণ করেছেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে জেরা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এদিন শুনানির শুরু থেকেই জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসের মনিটরসহ সংশ্লিষ্টদের কম্পিউটারে ভার্চ্যুয়ালি দেখা গেছে। ট্রাইব্যুনালের এজলাসের দেয়ালে টাঙানো দুটি বড় মনিটরে জিয়াউল আহসানকে দেখা যায়।
জেরা পর্ব শুরুর আগে জিয়াউল আহসানের আইনজীবী ও বোন নাজনীন নাহার একটি আবেদন নিয়ে শুনানি করেন। তিনি এর আগে করা একটি আবেদন প্রত্যাহার করে জানান যে, জিয়াউল আহসানকে একা আনা-নেওয়ার পরিবর্তে অন্যদের সঙ্গে আনা-নেওয়া করা হলেও তাঁদের আপত্তি নেই। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল জানান, ৮ অক্টোবর তাঁরা এ নিয়ে আদেশ দিয়েছিলেন যে জিয়াউল আহসান ভার্চ্যুয়ালি শুনানিতে অংশ নেবেন। বিষয়টি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। তবে আইনজীবী নাজনীন নাহার জানান, আদেশের লিখিত কপি না পাওয়ায় তিনি এই আবেদনটি করেছিলেন। সেদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত অবস্থান করেও আদেশের বিষয়টি জানতে পারেননি।
সশরীরে উপস্থিতি না থাকলে জেরার সময় সম্পূরক প্রশ্নের জন্য মক্কেলের পরামর্শ পাওয়া কঠিন হবে বলে আইনজীবী উদ্বেগ প্রকাশ করলে ট্রাইব্যুনাল সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল জানান, শুনানি চলাকালে কারাগারে থাকা আসামির কাছে একটি মুঠোফোন থাকবে এবং ট্রাইব্যুনালে থাকা আইনজীবীর কাছেও একটি মুঠোফোন থাকবে। আসামির কোনো প্রয়োজন হলে তিনি তাঁর আইনজীবীকে মুঠোফোনে কল দিতে পারবেন।
ট্রাইব্যুনালের এই আদেশের পরপরই মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নিরাপত্তার স্বার্থেই তাঁকে ট্রাইব্যুনালে সরাসরি না এনে কারাগার থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত করা হয়েছে।