উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি আসরের ‘ম্যাচ ডে ২’ যেন রেকর্ড গড়ার মঞ্চ হয়ে উঠেছিল। এই পর্বে অনুষ্ঠিত ১৮টি ম্যাচে মোট ৭৮টি গোল হয়েছে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এক ‘ম্যাচউইক’ বা দুই দিনের সূচিতে সর্বোচ্চ গোল। এর আগে গত মৌসুমে ‘ম্যাচ ডে ৩’-তে ১৮ ম্যাচে ৭১ গোল ছিল আগের সেরা রেকর্ড। সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ চ্যাম্পিয়নস লিগে এখন পর্যন্ত ৩৬ ম্যাচে ১৪৭ গোল হয়েছে, যেখানে ম্যাচপ্রতি গড় গোল ৪.০৮; টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ। ‘ম্যাচ ডে২’-তে মোট ১৮ ম্যাচে ৭৮ গোল হয়েছে।
রেকর্ডের এই দিনে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন আর্লিং হলান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে পিএসজির বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের ৬০তম গোল পূর্ণ করেছেন। মাত্র ৬০ ম্যাচে ৬০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়ে তিনি বনে গেছেন প্রতিযোগিতার দ্রুততম খেলোয়াড়। এক্ষেত্রে লিওনেল মেসি (৮০ ম্যাচ), রবার্ট লেভানডফস্কি (৮৫), কিলিয়ান এমবাপ্পে (৮৯) এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে (৯৮) অনেক পেছনে ফেলেছেন এই নরওয়েজিয়ান তারকা। ২৬ বছর ৮৫ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়ার পথে তিনি লিওনেল মেসির (২৬ বছর ৮৬ দিন) রেকর্ডটি ভাঙেন মাত্র এক দিনের ব্যবধানে। চ্যাম্পিয়নস লিগে এ নিয়ে ৬০ ম্যাচে ৬১ গোল হলো নরওয়ে তারকার। চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলে সিটির মাঠে দারুণ জয় পিএসজির।
অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নেমে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইউরো ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে ২৭ বছর ২৯৮ দিন বয়সে এই মাইলফলক ছুঁয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন লিওনেল মেসিকে (২৮ বছর ৮৪ দিন)। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে ১০০ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়দের মধ্যে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা কেবল মেসি (৭৭) ও লেভানডফস্কির (৮১) চেয়ে কম। এছাড়া পিএসজির বিপক্ষে ৪-২ গোলে হেরেছে ম্যানচেস্টার সিটি, যা ঘরের মাঠে কোনো ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথমবারের মতো চার গোল হজম করার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড। এর আগে ৩২ মিনিটের মধ্যে ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়াও তাদের ইতিহাসে বিরল ঘটনা ছিল। ইউরোপিয়ান কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এই প্রতিযোগিতায় ১০০ ম্যাচ খেললেন এমবাপ্পে।
অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদ গড়েছে এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় হারের মুখ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের হিসেবে তারা ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে ৫০ ম্যাচে জয় পেয়েছে। এছাড়া ইতালির ক্লাবের বিপক্ষে ইতালির মাটিতে টানা ১০ ম্যাচ জয়ের নতুন নজির গড়েছে রিয়াল। ২০১৬ সালে রোমাকে হারিয়ে তাদের এই জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা গতকাল রাতেও ৪-৩ গোলের জয়ে বজায় থাকল। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের এই সপ্তাহটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ছিল পরিসংখ্যান ও উত্তেজনায় ভরপুর। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার ইতিহাসে রিয়ালই প্রথম দল যারা নির্দিষ্ট কোনো দেশে গিয়ে সেই দেশের ক্লাবগুলোর বিপক্ষে টানা ১০ ম্যাচ জিতল। গতকাল রাতে সেই রোমার বিপক্ষে ৪-৩ গোলে জিতেছে জোসে মরিনিওর দল।