রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন

ম্যান সিটির কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের নথি প্রকাশ করবেন ব্রিটিশ

প্রতিবেদকের নাম

ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ক্লাবটি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের একটি মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ক্লাবটির আবুধাবিভিত্তিক মালিকপক্ষের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে মন্তব্য করায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলীয় নেতা কেমি বাডেনক। চাপের মুখে বার্নহ্যাম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি সিটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অতীতে করা নিজের সব বৈঠকের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবেন। জানিয়েছেন, এসব বৈঠকের কোনোটিই সাম্প্রতিক সময়ের নয়। এই রায় ঘোষণার পরই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন বার্নহ্যাম। সেই দাবিতেই সাড়া দিয়েছেন বার্নহ্যাম।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে সিটির মালিকপক্ষের সঙ্গে তাঁর কোনো বৈঠক হয়নি। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের উল্লেখযোগ্য বৈঠক হয়েছে মাত্র একটি, সেটিও ২০২১ সালে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পেশাগত প্রয়োজনে তিনি বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কাজ করেছেন, যার পুরোটাই স্বচ্ছতার সাথে জনসমক্ষে আনবেন। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত তিনি মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন।

প্রিমিয়ার লিগের স্বাধীন কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা নয় বছর ধরে ম্যানচেস্টার সিটি আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। ক্লাবের ফুটবল কার্যক্রমে গোপনে ৮৩ কোটি পাউন্ডের বেশি অর্থ বিনিয়োগের জন্য বাণিজ্যিক অংশীদারদের সাথে ভুয়া চুক্তি করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। গত মাসে ঘোষিত রায়ে একটি অভিযোগ ছাড়া বাকি সব কটিতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে সিটি, যদিও ক্লাবটি শুরু থেকেই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৯ বছরে আর্থিক নিয়ম ভেঙেছে ম্যানচেস্টার সিটি। তবু দুর্দান্ত সিটি, লিভারপুলকে উড়িয়ে ছয়ে ছয়। আমি আনন্দের সঙ্গেই তা করতে রাজি এবং সেটাই করব।’।

বিতর্কিত মন্তব্য প্রসঙ্গে ‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিকস’ পডকাস্টে বার্নহ্যাম জানান, তখন তাঁর মনোযোগ ছিল লেবার পার্টির সম্মেলনের দিকে। তিনি বলেন, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এবং বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ফুটবলের আর্থিক অনিয়মের বিষয়টিকে তিনি নিজেও গুরুতর মনে করেন এবং স্বাধীন কমিশন যে অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রায় দিয়েছে, তার গুরুত্ব তিনি অস্বীকার করছেন না।

তবে বার্নহ্যামের আগের একটি মন্তব্য প্রিমিয়ার লিগের বিভিন্ন ক্লাবকে হতবাক করেছিল, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে মালিকপক্ষ ক্লাব বিক্রি করে দিলে তিনি উদ্বিগ্ন হবেন। বিবিসি স্পোর্টসের তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রীর এমন অবস্থান শুনে ক্লাবগুলো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা করেছিল। বর্তমানে ম্যানচেস্টার সিটির বিচারপ্রক্রিয়া একটি স্বাধীন ব্যবস্থার অধীনে চলছে, যেখানে ২০২৪ সালে টানা ৪২ দিন ধরে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিবিসি স্পোর্টকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, বার্নহামের অবস্থান দেখে ক্লাবগুলো এতটাই ‘হতবাক’ হয়েছিল যে আপিলের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কাও তৈরি হয়।

কমিশনের প্রতিবেদনে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর ভূমিকা নিয়েও কড়া পর্যবেক্ষণ রয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্লাবের কয়েকজন সাক্ষী জেনেশুনে অসত্য ও অসৎ উদ্দেশ্যে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। এখন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য পৃথক একটি স্বাধীন আপিল বোর্ড গঠন করা হবে।

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে মাঠের বাইরে তোলপাড় চললেও মাঠের পারফরম্যান্সে এর প্রভাব পড়েনি। গতকাল রোববার অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যানচেস্টার সিটি ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে। এছাড়া ম্যানচেস্টারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগের নীতি অনেক পুরোনো, যা বার্নহ্যামের মেয়র হওয়ার অনেক আগেই শুরু হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। সিটি সমর্থকেরা অ্যানফিল্ডে কলা দেখালেন কেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেইজ