দুর্গাপূজা ও সরকারি ছুটির সমন্বয় ঘটিয়ে টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়ায় রাজধানী ঢাকা ছেড়ে গ্রামের পথে ছুটছেন হাজারো মানুষ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল থেকেই সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী ও ধোলাইপাড়সহ ঢাকার প্রধান বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গন্তব্যে পৌঁছাতে বাস কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন ঘরমুখী যাত্রীরা। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ভাষ্য, রাজধানীর অন্যতম বড় বাস টার্মিনাল সায়েদাবাদ ও এর আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই যাত্রীদের আনাগোনা বেড়েছে।
তানা এই ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে।
গত ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ ও নির্বাহী আদেশের ছুটির তারিখ পুনর্বিন্যাস করা হয়। ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি রয়েছে। মাঝখানের কর্মদিবস ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও সরকারি ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় মোট পাঁচ দিনের ছুটি পাচ্ছেন চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ। ১৭ অক্টোবর শনিবার অফিস খোলা থাকায় এই লম্বা ছুটি অনেকের কাছেই বাড়তি আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে। তিনি একটি ভোগ্যপণ্য বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
তবে যাত্রীদের এই বাড়তি চাপের সুযোগে কোনো কোনো পরিবহন সংস্থা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তার ফেম পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা সোহেল আহমেদ জানিয়েছেন, ছুটি শুরু হওয়ায় যাত্রীর চাপ অনেক বেশি। আগে শরীয়তপুরের ভাড়া ২৫০ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী যাত্রী মিজান হোসেন জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ভাড়া ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮০ টাকা হয়েছিল। কিন্তু এখন কোনো নিয়ম না মেনে সরাসরি ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে লিয়াকত নামের একজন যাত্রী জানান, বরিশালের লোকাল বাসের ভাড়া সাধারণত ৫০০ টাকা হলেও এখন তা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। একই অভিযোগ কুমিল্লা রুটের যাত্রীদেরও; তাদের ভাষ্য, স্বাভাবিক সময়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা ভাড়া হলেও এখন ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
অবশ্য অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছে পরিবহন কর্তৃপক্ষ। কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী তিশা পরিবহনের কর্মী শাহাদাত হোসেন দাবি করেছেন, তারা কেবল সরকারি নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছেন। তার মতে, অন্য সময়ে প্রতিযোগিতা থাকায় ভাড়া কম নেওয়া হয়, কিন্তু ছুটির মৌসুমে তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে মাত্র।
উল্লেখ্য, সোমবার বিকেল থেকেই বাস টার্মিনালের পাশাপাশি রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটগুলোতেও যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। স্বজনদের সাথে পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছুটছেন কর্মজীবী মানুষ। বাসের পাশাপাশি যাত্রীর সংখ্যা প্রচুর হওয়ায় টিকিট পেতেও হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে। বরিশালে যাওয়ার জন্য সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন লিয়াকত। ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন তিনি।