ইরাকে ইরানের শহীদ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর পবিত্র মরদেহের দাফন-পূর্ব শোকযাত্রার সময়সূচি ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় আরবরা ব্যাপক আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। অনেকেই লিখেছেন, তাঁরা গভীর আগ্রহ নিয়ে সেই দিনের অপেক্ষায় আছেন এবং গোটা মুসলিম উম্মাহর এই শহীদের মরদেহকে শেষবারের মতো বরণ করার জন্য ক্ষণগণনা করছেন।
বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে পার্সটুডে জানিয়েছে- “নূর হাসনা” নামের এক এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন: “উঠে দাঁড়াও,একটি মহৎ ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে…আল্লাহর জন্য উঠে দাঁড়াও,ইরাক তার অঙ্গীকারে অটল।
“সারওয়ার আস সামাওয়ি” নামের আরেক ব্যবহারকারী লিখেছেন- “এই পবিত্র মুখমণ্ডল ও ঈমানদার হৃদয়গুলোর ওপর আমাদের আশা। সর্বাধিনায়কের শোকযাত্রা যেন ইরাকের জন্য এমন এক গৌরব হয়ে ওঠে,যা ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ থাকবে।
মিরনা শাম্মাস” লিখেছেন: “তোমার শোকযাত্রা ততটাই মহিমান্বিত হবে, যতটা মর্যাদা আল্লাহ তোমার মাধ্যমে মুমিনদের দান করেছেন। ততটাই মহান হবে, যতটা তোমার পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে অত্যাচারীদের অপমানিত করেছে। হে আমাদের নেতা, হে আমাদের ইমাম, তোমার জন্য আমাদের আকুলতাই তোমার শোকযাত্রার মহিমা নির্ধারণ করবে।
“তাকওয়া আল-আসাদি” লিখেছেন: “আমরা তোমাকে আমাদের কাঁধে বহন করব এবং আনন্দাশ্রু নিয়ে বিদায় জানাব। প্রতিরোধের পথে অতিবাহিত তোমার জীবনের প্রতি সালাম। আমরা অঙ্গীকার করছি,তোমার পথ অনুসরণ করব।
ড. লুজাইন বিনতে ওমান লিখেছেন: “সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী শুধু একজন ব্যক্তি ছিলেন না; তিনি ছিলেন এক জীবন্ত সত্য এবং একটি চিন্তাধারা, যা আজও আমাদের হৃদয়ে বেঁচে আছে।
“হুরুফ সুমারিয়াহ” লিখেছেন: “হে ফাতিমার সন্তান, নাজাফ থেকে পবিত্র কারবালা পর্যন্ত লাখো মানুষ তোমার প্রতি ভালোবাসা জানাতে তোমার জানাজায় অংশ নেবে।
“আইমান মোহাম্মদ আল-জুবুরি” লিখেছেন: “আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী ইরাকিদের স্মৃতিতে শুধু ইরানের নেতা নন; তিনি এমন একজন ব্যক্তি, যিনি সন্ত্রাসীদের হুমকির সময় ইরাকের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং শহীদ কাসেম সোলাইমানিকে ইরাককে সহায়তার দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
“সিন” নামের এক ব্যবহারকারী লিখেছেন: “তোমার পবিত্র মরদেহকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে নাজাফ ও কারবালার রাস্তাগুলো কালো ও হুসাইনি পতাকায় সজ্জিত হয়েছে। আমাদের শহর এবং হৃদয় তোমার অপেক্ষায়।
“আজল আস-সাঈদি” লিখেছেন: “হে আমার নেতা, হুসাইনের ইরাকে তোমাকে স্বাগতম। তোমার পবিত্র মরদেহে আমাদের ভূমি ধন্য হবে। আল্লাহর কসম, এটি আমাদের জন্য এক মহান সম্মানের দিন।
“হানিন আল-ইয়াসিরি” লিখেছেন: “একটি দেহ বিদায় নিল, কিন্তু একটি জাতি জেগে উঠল। তোমার কাছ থেকে আমরা হাজারো আদর্শ, হাজারো বিপ্লব এবং হাজারো অঙ্গীকার উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছি, যা কখনও ভঙ্গ হবে না।
“নূর আল-মাহদি আল-সাফি” লিখেছেন: “হে মজলুমদের ইমাম, যেমন ইরাকিরা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর দিকে ছুটে গিয়েছিল, তেমনি তারা তোমার দিকেও ছুটে আসবে। এটি শুধু একটি শোকযাত্রা নয়; বরং কঠিন সময়ে আমাদের পাশে দাঁড়ানো এক নেতার প্রতি ইরাকিদের আনুগত্যের দিন।”
ড. জয়নাব লিখেছেন: “ইরাকের জনগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, কবে তারা ফাতিমার সন্তানকে শেষবারের মতো বুকে জড়িয়ে ধরতে পারবে।