১৯৭৬ সালে প্রয়াত কে জেড ইসলাম নির্মাণ ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের এই পথচলায় প্রতিষ্ঠানটির মূল দর্শন হিসেবে কাজ করেছে ‘প্রুফ ওভার প্রমিজ’ বা ফাঁকা প্রতিশ্রুতির বদলে বাস্তবে কাজ করে দেখানোর নীতি। এই দীর্ঘ যাত্রায় বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন, সেনাকল্যাণ ভবন ও ব্র্যাক সেন্টারের মতো দেশের একাধিক আইকনিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা গড়ে তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৮৪-৮৫ সালের দিকে সেনাকল্যাণ ভবন নির্মাণের সময়ই জাপানের ফেয়ার-ফেস কনসালট্যান্ট নিয়ে আসা হয়েছিল। আবাসন শিল্পের চেয়ে গুণগত মান ও প্রযুক্তির ব্যবহারে অন্তত দুই ধাপ এগিয়ে থাকাই এই প্রতিষ্ঠানের মূল ঐতিহ্য। গত ৫০ বছরের দীর্ঘ যাত্রায় বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন, সেনাকল্যাণ ভবন ও ব্র্যাক সেন্টারের মতো দেশের বহু ঐতিহ্যবাহী ও আইকনিক স্থাপনা আমরা তৈরি করেছি। প্রায় পাঁচ দশকের পথচলায় নির্মাণ ব্র্যান্ডের লক্ষ্য অনুযায়ী সাফল্যগুলো আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন।
পরিবেশবান্ধব ও টেকসই আধুনিক স্থাপনা নির্মাণে এখন জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক ভবন ‘মিরাই’ আন্তর্জাতিক লিড গোল্ড সনদ অর্জনের লক্ষ্যে তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী সেন্ট্রাল চিলার এসি এবং বাইরের তীব্র তাপ ও কোলাহল কমানোর জন্য বিশেষ গ্লাস ব্যবহৃত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ডব্লিউটিপি), সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকছে। বাতাসের চাপ সহনের ক্ষমতা নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করতে ইতালিতে উইন্ড-টানেল টেস্টও করানো হয়েছে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও টেকসই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সমন্বয়ে আপনারা বর্তমানে কী ধরনের নতুন উদ্যোগ নিচ্ছেন। রাহাত কামাল: আমরা এমন আধুনিক স্থাপনা নির্মাণে গুরুত্ব দিচ্ছি, যা দীর্ঘস্থায়ী এবং সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। রাহাত কামাল: আমরা সব সময় ‘কম প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং বেশি নিশ্চত করার’ নীতিতে বিশ্বাস করি; অর্থাৎ গ্রাহককে যতটুকু প্রতিশ্রুতি প্রদান করি, বাস্তবে তার চেয়ে বেশি মানসম্পন্ন সার্ভিস দেওয়ার চেষ্টা করি।
গ্রাহকদের জন্য গুণগত মান ও সঠিক সময়ে প্রকল্প হস্তান্তর নিশ্চিত করতে কম প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেশি সেবা দেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হয়। শক্ত মান নিয়ন্ত্রণ দল রড বাঁধা, শাটারিং ও অন্যান্য উপকরণের শতভাগ মান যাচাই না করে পরবর্তী কাজ শুরু হতে দেয় না। এ ছাড়া নির্মাণ শুরুর আগেই বিআইএম প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবনের একটি ডিজিটাল প্রতিলিপি তৈরি করা হয়, যা সম্ভাব্য বাধা ও সমস্যা আগেভাগেই চিহ্নিত করে সমাধান করে দেয়। আমাদের নিজস্ব একটি শক্তিশালী মান নিয়ন্ত্রণ টিম রয়েছে।
মানুষ তার জীবনের প্রায় ৯০ শতাংশ সময় বাসগৃহ ও কর্মস্থলে কাটায়। তাই এই জায়গাগুলোকে স্বাস্থ্যকর, সুন্দর ও সতেজ রাখা আবশ্যক। বর্তমান তরুণ দম্পতিরা কেবল অতিরিক্ত বেডরুমের চেয়ে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, শিশুদের খেলার জায়গা, সবুজ বাগান ও উন্নত জিমনেসিয়াম বেশি পছন্দ করেন। এই চাহিদা মেটাতে ভবিষ্যতে ১০ থেকে ২০ বিঘা জমিতে ‘গেটেড কমিউনিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে একটি সুরক্ষিত সীমানায় খেলার মাঠসহ সব আধুনিক সুবিধা মিলবে।
ঢাকার বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় জমির পরিমাণ সীমিত হওয়ায় এখানে পরিকল্পিতভাবে উঁচু ভবন নির্মাণ করা ছাড়া উপায় নেই। এ ক্ষেত্রে নীতিগত দীর্ঘসূত্রতা এড়িয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। সরকার নিজে ভবন না বানিয়ে শুধু নিয়মনীতি নির্ধারণ ও তদারকি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করলে খাতের উন্নতি ত্বরান্বিত হবে। সেই সঙ্গে বড় জমি বরাদ্দ পেলে অভিজ্ঞ ডেভেলপাররা বিশ্বমানের টেকসই প্রকল্প তৈরি করতে সক্ষম হবে।