সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় দুই বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। ভয়াবহ এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও চারজন, যাদের বর্তমানে স্থানীয় একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া হামলায় সর্বমোট তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সরকারিভাবে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রিয়াদ ও জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি নিহতদের নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে হতে পারে। তাদের খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি নিরাপদে থাকার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।
নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্তকরণ ও তাদের মৃতদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জেনেছি যে হামলায় দুজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তবে তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও পারিবারিক বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতায় এ পর্যন্ত মোট ১৪ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমানো এই প্রবাসীরা দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তাদের এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং সরকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। পরিবার-পরিজন ছেড়ে বিদেশে কাজ করতে গিয়ে এভাবে তাদের মৃত্যু মেনে নেয়া অত্যন্ত কষ্টকর।
মৃতদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহতদের চিকিৎসার খরচ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, প্রথা অনুযায়ী বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি মারা গেলে তার মৃতদেহ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এক্ষেত্রেও সরকারের পক্ষ থেকে সকল ব্যয় বহন করা হবে। তিনি আরও বলেন, পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে পুরো বিষয়টি তদারকি করছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিহতদের স্বজনদের কাছে মরদেহ পৌঁছে দেওয়া হবে।
বিমানবন্দর হামলার পরপরই রিয়াদগামী ফ্লাইটগুলো স্থগিতের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো সুনির্দিষ্ট উড়োজাহাজ বা ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোনো তথ্য নেই। হামলার মুহূর্তে কোনো বাংলাদেশি বিমান সেখানে ছিল কি না, তা নিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া ওমরাহযাত্রী ও কর্মসংস্থানের জন্য যাওয়া বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে। যুদ্ধাবস্থায় প্রবাসী নাগরিক ও উড়োজাহাজের নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ও সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। চলমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে যাতায়াত, বিশেষ করে ওমরাহযাত্রী ও কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা জরুরি।