সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৩০৯ জন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক। এছাড়া বাংলাদেশের দুজন এবং ফিলিস্তিন, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, জর্ডান, সিরিয়া ও সুদানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। ধারাবাহিক এই হামলার জেরে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম শনিবার সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়। ফ্লাইটঅ্যাওয়ার ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিমানবন্দরটিতে অন্তত ২৯১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে এয়ার ইন্ডিয়া, ফ্লাইদুবাই, লুফথানসা ও পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসসহ বেশ কয়েকটি সংস্থা রিয়াদে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করেছে। কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ভ্রমণের আগে নিজ নিজ বিমান সংস্থার সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। বিমান চলাচলের তথ্য সরবরাহকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রিয়াদ বিমানবন্দরের অন্তত ২৯১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। রিয়াদ ছাড়াও আভা, খামিস মুশাইত, জিজান এবং নাজরান এলাকাকে লক্ষ্য করে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে অপর এক হামলায় সৌদি জাতীয় এয়ারলাইনসের একজন পাইলটসহ তিনজন নিহত হন। তার আগের দিন একই স্থানে আরেক হামলায় সুদানের একজন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও দফায় দফায় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ধারাবাহিক হামলায় বিদেশি নাগরিকসহ বহু মানুষের হতাহতের ঘটনায় সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল ও যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা বর্তমানে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।